ফিফার নীতিনির্ধারণী কাউন্সিলের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করায় ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) এই ক্ষমা চান তিনি। তবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকেও ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। খবর ইএসপিএন-এর।
সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশীদারত্ব বিক্রির জন্য নেয়া ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বাতিল পরিকল্পনা-সংক্রান্ত কোনো নথি উপস্থাপন করেননি। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনাটি ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পরে পরিত্যক্ত হয়।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও নতুন কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর তার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পকে দেয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার ভবিষ্যতেও চালু রাখা হবে কি না, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গত বছর প্রবর্তিত এই পুরস্কার গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে দেয়া হয়েছিল।
ফিফার সহসভাপতি ও ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডেবি হিউইট জানান, বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের লিখিত প্রশ্ন জমা দিতে বলেছেন ইনফান্তিনো। এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব তারই বলে মন্তব্য করেন হিউইট।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইনফান্তিনো যদি উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ফিফা সভাপতি হিসেবে তার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বার্ন্ড নয়েনডর্ফও। ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলে থাকা উয়েফার আট প্রতিনিধির একজন তিনি। নয়েনডর্ফের মতে, ফিফার সুনাম পুনরুদ্ধারে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যার ওপর সততা ও জবাবদিহির বিষয়ে আস্থা রাখা যায়।
আগামী ২০২৭ সালের মার্চে ফিফার সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৎপর রয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের জন্য প্রমাণ সংগ্রহের সুযোগ পেতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে উয়েফা।
সুইজারল্যান্ডে অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা সামনে রেখে আদালতে জমা দেয়া নথিতে ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত পৃথক প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।